সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার
24.02.2014 | 9:48 অপরাহ্ন
কারসেল, ক্রাইম, শিক্ষাঙ্গন
no comments
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের
মির্জাপুরে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককের নাম আলাউদ্দিন আল আজাদ। সে এ উপজেলার
বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর সূর্য্য তরুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পুলিশ সূত্র জানান, ওই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে প্রধান
শিক্ষক আলাউদ্দিন আল আজাদ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে উক্তত্য ও যৌন হয়রানীর
চেষ্টা করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি জোর করে ওই ছাত্রীকে যৌন
হয়রানীর চেষ্টা করে। এ প্রেক্ষিতে ছাত্রীর পিতা শনিবার মির্জাপুর থানায়
লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গভীর রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনাটি জানাজানি করা হলে ছাত্রীকে এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করানো হবে বলে লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রীর পিতা উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্যামর কুমার দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শ্যামর কুমার দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
inShare
সাধারণ সিগারেটের থেকেও বেশি ক্ষতিকারক মেন্থল সিগারেট
সাধারণ সিগারেটের থেকেও বেশি ক্ষতিকারক মেন্থল সিগারেট
24.02.2014 | 9:21 পূর্বাহ্ন
কারসেল, স্বাস্থ্য
no comments
নিউ
ইয়র্কঃ সিগারেট ছাড়ব ছাড়ব করেও ছাড়তে পারছেন না? সাধারণ সিগারেটে
স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেশি ভেবে মেন্থল সিগারেট খাওয়া শুরু করেছেন? কিন্তু
সাধু সাবধান। সম্প্রতি এক মার্কিন গবেষণা বলছে, মেন্থল সিগারেট সাধারণ
সিগারেটের চেয়েও অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকারক। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন(এফডিএ) এক গবেষণা থেকে এই সিদ্ধান্তে এসেছে। এমনকি,
মেন্থল সিগারেটের উৎপাদন কমানো বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়েও ভাবনা-চিন্তা
শুরু করেছে সে দেশের সরকার।
অনেকে মনে করেন মেন্থল সিগারেট খুব হালকা এবং এতে তামাকের পরিমাণ কম, যা
স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে অন্য কথা। এক
বিখ্যাত মার্কিন তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মিচ জেলার
সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, মিন্ট সিগারেটে তামাকের পরিমাণ মোটেও কম থাকে না।
সাধারণ সিগারেটের মতোই একই পরিমাণ তামাক থাকে এতে, যা স্বাস্থ্যের জন্য
অত্যন্ত ক্ষতিকর।বিদেশের সিগারেট ব্যবসায় মিন্ট সিগারেট বিপুল মুনাফা এনে দেয়। তাই এখনই নিষিদ্ধ না হলেও, মেন্থল সিগারেটের ক্ষতিকারক গুণগুলি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি মার্কিন হেল্থ কমিউনিটি, তামাক শিল্প এবং কমার্স চেম্বারগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসেছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। ওই মার্কিন গবেষণা বলছে, মেন্থল সিগারেটের আসক্তি থেকে বের হয়ে আসাটাও বেশ কঠিন।
banglanews26.com/২৪.০২.২০১৪/ রানা
inSharehttps://www.facebook.com/
https://www.facebook.com/banglanews26?skip_nax_wizard=true
ত্রিশালে কমান্ডো স্টাইলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন জেএমবি সদস্যকে ছিনতাই
ত্রিশালে কমান্ডো স্টাইলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন জেএমবি সদস্যকে ছিনতাই
ময়মনসিংহ অফিস, ত্রিশাল, ভালুকা, সখিপুর, গাজীপুর ও কালিয়াকৈর সংবাদদাতা
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, সোমবার, ১০:২৮
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, সোমবার, ১০:২৮
ত্রিশালে জেএমপি সদস্যদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সমম্য গুলিতে নিহত (উপরে বাঁ থেকে) কনস্টেবল আতিকুল ইসলাম, আহত কনস্টেবল সোহেল রানা ও এসআই হাবিবুর রহমান ; জেএমবি সদস্য জাহিদুল, রাকিব ও সালেহীন ; সখিপুরে গ্রেফতারের পর রাকিব হাসান ওরফে রাসে
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ডে কমান্ডো
স্টাইলে ককটেল ফাটিয়ে ও গুলিবর্ষণ করে প্রিজন ভ্যান থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
জেএমবির তিন সদস্য সালাহউদ্দিন সালেহীন, রাকিব হাসান ও বোমা মিজানকে
ছিনতাই করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি
কারাগার থেকে ময়মনসিংহের একটি আদালতে হাজিরা দিতে ওই তিন আসামিকে নেয়ার সময়
গতকাল সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রিজন ভ্যানের
নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কনস্টেবল আতিকুর রহমান (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে
ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন সুবেদার হাবিবুর রহমান (৪৫) ও সোহেল রানা
(৩০)। তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মইনুল হকসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং রেড অ্যালার্ট জারি করেন। বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ রাস্তায় রাস্তায় তল্লাশি ও বিশেষ চিরুনি অভিযানে নামে। টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল ও কয়েকটি ককটেলসহ চালক জাকারিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। পরে চিরুনি অভিযান চালিয়ে রায়হান ও রাকিব হাসান ওরফে রাসেলকে তক্তারচালা বাজার থেকে আটক করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এ এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন। ছিনিয়ে নেয়া তিন জঙ্গিসহ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান চলছে। নিহত পুলিশ সদস্যকে এক লাখ টাকা প্রদান করবেন। ঘটনার পর গোটা বিষয়টি ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ হয়ে ব্যাপক আলোচিত হয়।
যেভাবে তিন আসামি ছিনতাই : গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে সকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির তিন জঙ্গি সালাহউদ্দিন সালেহীন, রাকিব হাসান ও বোমা মিজানকে ময়মনসিংহের আদালতে হাজিরা দিতে আনার পথে সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল উপজেলার সাইনবোর্ডে পৌঁছলে সামনে চলমান একটি ট্রাক প্রিজন ভ্যানের গতি রোধ করে। একই সময়ে কালো রঙের একটি ভক্সি মাইক্রোবাস ও সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার প্রিজন ভ্যানের দুই পাশে এসে দাঁড়ায়। ওই দুই গাড়ি থেকে নেমে একদল জঙ্গি কমান্ডো স্টাইলে প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। একই সময় কয়েকজন জঙ্গি প্রিজন ভ্যানের সামনের গ্লাসে দু’টি গুলিবর্ষণ করে এবং চালক সবুজের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি ছিনিয়ে নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রিজন ভ্যানে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জঙ্গিরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশ কনস্টেবল আতিক লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আরো দুই পুলিশ সদস্য সুবেদার হাবিবুর রহমান ও কনস্টেবল সোহেল রানা গুলিবিদ্ধ হন। এরপর জঙ্গিরা প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির তিন সদস্য সালাহউদ্দিন সালেহীন, রাকিব হাসান ও বোমা মিজানকে বের করে কালো রঙের ভক্সি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। আর প্রাইভেটকারটি ত্রিশালের দিকে চলে আসে। ককটেল ও গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসে। লোকজনের ভিড় ভাড়ার আগেই জঙ্গিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন আহত কনস্টেবল সোহেল রানাকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সুবেদার হাবিবুর রহমানসহ দুই জনকেই গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাবিবুরের পেটে ও সোহেল রানার পিঠে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের মধ্যে সুবেদার হাবিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রিজন ভ্যানচালক ও ইউপি সদস্য : প্রিজন ভ্যানচালক সবুজ সাংবাদিকদের জানান, গাজীপুর থেকে আসার পথে ট্রাকটি প্রিজন ভ্যানের সামনেই ছিল। পেছনে ছিল দু’টি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেট কার। ট্রাকটি সামনে থেকে প্রিজন ভ্যানের গতিরোধ করলে পেছন থেকে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুবেদার হাবিবুর রহমান জানান, সন্ত্রাসীরা প্রিজন ভ্যানের সামনে এসে তাকে লক্ষ্য করে প্রথমেই গুলিবর্ষণ করলে তিনি আহত হন। পরে সন্ত্রাসীরা চালক সবুজের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এরপর কী হয়েছে আর বলতে পারব না।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমিরাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ত্রিশালের উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। তখন তাকিয়ে দেখি একটি পুলিশের গাড়িকে সামনে ও পেছন দিয়ে ঘিরে ফেলেছে একটি সাদা ও একটি কালো মাইক্রোবাস। মাইক্রোবাস দু’টি থেকে ১০-১৫ জন কালো মুখোশধারী লোক পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। আমি ঘটনাটি সাথে সাথে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদারকে জানাই। তিনি আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি কাছে যাওয়ার আগেই তিনজন পুলিশকে গুলি করে তিনজন আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় পিস্তল হাতে মুখোশধারীরা। সামনের গাড়িটি সাদা রঙ ও পেছনের গাড়ি কালো রঙের ছিল। আসামিদের নিয়ে গাড়ি দু’টি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা উত্তরের দিকে চলে যায়। আহত পুলিশদের আমি একটি গাড়িতে তুলে দেই। আসামিরা দু’টি বোমা ও অসংখ্য গুলি করে। পুলিশ সদস্যদের দু’টি বন্দুক আমি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে আসি।
পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের দু’টি বন্দুক পড়ে আছে। একটি বন্দুক ভাঙা। টাঁকশালের টাকা নেয়ার একটি খালি বাক্স পড়ে আছে। প্রিজন ভ্যানটির সামনের কাচে দু’টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পেছনের দরজায় পুলিশের রক্তমাখা টুপি। আসামি ছিনতাইয়ের সময় তালাটি ভাঙা হয়, সেটি পড়ে আছে। পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।
যা বললেন পুলিশ সুপার : খবর পেয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মঈনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ হাসপাতালে ছুটে যান। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, প্রিজন ভ্যানের সামনে একটি ট্রাক প্রথমে প্রিজন ভ্যানটিকে ব্যারিকেড দেয়। পরে কালো কাপড়ে মুখ বাঁধা কয়েকজন সন্ত্রাসী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে এ ঘটনা ঘটায়।
স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়নি : ডিআইজি
বেলা ২টার দিকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন হতাহতদের দেখতে। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত পুলিশ কনস্টেবল পরিবারকে এক লাখ টাকা ও আহতদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করা হবে।
তিনি আরো জানান, জঙ্গিদের ময়মনসিংহে আনার বিষয়টি জেলা পুলিশ জানত না। কারাগার থেকে দুর্ধর্ষ আসামিদের স্থানান্তর করার সময় যে এলাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, সেই এলাকার পুলিশকে অবহিত করতে হয়। এ েেত্র তা করা হয়নি।
তিনি জানান, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের পুলিশ এই বিষয়ে অবহিত ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপাররা জানিয়েছেন। নিরাপত্তায় গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আতিকের বাড়িতে আহাজারি : এ দিকে আতিকের গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তার স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাদ আসর পুলিশ লাইনে নিহত আতিকের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত আতিক ময়মনসিংহ জেলা সদরে পোন ঘাগরার চুনখাই বাজার এলাকার আবু সাইদ শেখের ছেলে। তার জন্ম ১৯৮৫ সালে। তিনি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে।
তিন আসামির পরিচয় : আদালত সূত্রে জানা যায়, ছিনতাই হওয়া জেএমবির সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন ও রাকিব হাসান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও বোমা মিজান যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাদেরকে মুক্তাগাছা থানার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা নং ১৬(০৩)২০০৬ ও কোতোয়ালি থানার সিরিজ বোমা হামলা মামলা নং ৭(১২)০২সহ পাঁচটি মামলায় হাজিরা দিতে ময়মনসিংহে আনা হচ্ছিল।
জেএমবির শূরা সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির সূরা সদস্য সালাউদ্দিন সালেহীন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, পার্ট-১-এর কয়েদি। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলার পাঠানবাড়ী গ্রামে। তাকে সর্বশেষ এ কারাগারে ২০১০-এর ২২ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে আনা হয়। সে ৩৩টি মামলার আসামি। এর মধ্যে ১০টি মামলার রায়ে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। রায়ে একটিতে মৃত্যুদণ্ডসহ অপর ৯টি মামলায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম সুমন ওরফে বোমা মিজান : জাহিদুল ইসলাম সুমন ওরফে বোমা মিজানকে (৩৫) ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। সে জামালপুর জেলার শেখেরভিটা এলাকার সুজা মিয়ার ছেলে। সে ১৯টি মামলার আসামি। এর মধ্যে ২০০৯ এর ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুর থানার একটি অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত (৩০ বছর)। এ ছাড়া দু’টি মামলায় ছয় বছর করে ও একটি ১৬ বছর ও একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত।
জেএমবি শূরা সদস্য রাকিব হাসান রাসেল : জেএমবি শূরা সদস্য রাকিব হাসান রাসেল জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার বেলতৈল গ্রামের আব্দুস সোবাহানের ছেলে। সে ৩০টি মামলার আসামি। এর মধ্যে চারটি সাজাপ্রাপ্ত। একটিতে মৃত্যুদণ্ড ও অন্য তিনটিতে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়া হয়েছে।
সখিপুরে মাইক্রোচালক জাকারিয়া আটক : ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা চালিয়ে ছিনতাইকৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির তিন আসামি সালাউদ্দিন সালেহীন, বোমা মিজান ও রাকিব হাসানকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সখিপুরে প্রশিকা এলাকা থেকে তাদের সহযোগী জাকারিয়াকে (২৫) গাড়িসহ আটক করেছে সখিপুর থানা পুলিশ।
প্রত্যদর্শীরা জানান, গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে কালো রঙের ভক্সি মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ ১১-৬০৪৮) সাগরদিঘী-সখিপুর সড়কে ফিল্মি স্টাইলে ভাঙচুর করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সখিপুর থানার সামনে পৌঁছলে পুলিশ ও জনতা গাড়িটির গতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ-জনতা গাড়িটির পিছু নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকা-সখিপুর সড়কের প্রশিকা এলাকায় গাড়িটি রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় জনতা গাড়িচালক জাকারিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ এ সময় গাড়ি থেকে দুই রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তল, চারটি মোবাইল সেট ও রড কাটারসহ বেশ কয়েকটি তাজা বোমা উদ্ধার করে। এ সময় মূল আসামিরা গাড়ি থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা সখিপুরের ও আশাপাশ এলাকায় চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।
তক্তারচালায় রাকিব ও রাসেল আটক : এ দিকে বিকেলে সখিপুরের তক্তারচালা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে রাকিব ও রাসেলকে আটক করে পুলিশ। টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, রোববার বিকেলে মির্জাপুরের তক্তারচালা এলাকায় হেঁটে যাওয়ার সময় সন্দেহ হওয়ায় একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে জেএমবি সদস্য রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহামুদ (৩৫) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ‘তার গলা, হাতে ও পায়ে ডাণ্ডাবেরির দাগ ছিল। এর সাথে সদ্য দাড়ি কামানো চেহারা দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়।’
তদন্ত কমিটি গঠন : এ ঘটনায় অতিরিক্ত সচিব নাজিম উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) এস এম মাহাফুজুল হক নুরুজ্জামান, ডিআইজি প্রিজন (সদর দফতর) টিপু সুলতান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খায়রুল কবির মেনন এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইফতেখারুল ইসলাম খান বলেন, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি : স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাকিরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তাদের ধরতে আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। আশা করি শিগগিরই সবাইকে আটক করা সম্ভব হবে।’ এ ধরনের আসামিদের আনা-নেয়ার েেত্র আগামীতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহাফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ‘ত্রিশালের ঘটনার পর ময়মনসিংহ ও আশপাশ সব জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।’
অভিযান চলছে, ধরিয়ে দিলে পুরস্কার : ছিনিয়ে নেয়া জেএমবি সদস্যদের ধরতে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ছিনতাই হওয়া আসামিদের উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। পলাতক আসামিদের জীবিত অথবা মৃত ধরিয়ে দেয়ার জন্য মাথাপিছু এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান। বাকি দুই জঙ্গিসহ পুলিশের গাড়িতে হামলাকারীরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য সীমান্তে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।
এ দিকে অপহৃত তিন জেএমবি সদস্য ও তাদের ছিনতাইকারীদের আটকের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের আশপাশ জেলাগুলোয় বিশেষ করে টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। সড়ক-মহাসড়কগুলোয় চালানো হয় ব্যাপক তল্লাশি। ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলা থেকে অপহৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেএমবির শূূরা সদস্য রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাসেলকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়।
বিভিন্ন কারাগারে রেড অ্যালার্ট : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। গতকাল ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার পর এই আদেশ জারি করা হয়। রাজশাহী কারাগারের জেলার ইসমাইল হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে কারাভ্যন্তরে নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন মামলার ২৫ জন আসামি রয়েছে। তাই যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারাভ্যন্তরে ও আশপাশ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ভেতরে ও বাইরে টহলসহ সার্বিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
যশোরে কারাগার থেকে বোমা উদ্ধার
যশোর অফিস জানায়, ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জেএমবির তিন আসামি ছিনিয়ে নেয়া এবং যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পাঁচটি তাজা বোমা উদ্ধার করার পর যশোরসহ খুলনা বিভাগের সব কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের বাইরে ও ভেতরে সব কারারীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কারা কর্তৃপ। ঘটনার দিন থেকেই কারা অভ্যন্তরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার আবদুস সালামকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এক হাজার ৯১৯ জন ধারণমতাসম্পন্ন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে এক হাজার ৮০৪ জন বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন জেএমবি সদস্য ও ৩৯ জন মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা কারাগারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জেএমবি আসামি আছে।
কারাগারের ব্যারাকে বোমা রাখার ব্যাপারে জেলার এ এস এম কামরুল হুদা বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের কারাগার পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। প্রশাসনকে বিব্রত করতে কারারীদের কেউ বোমা রাখতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ব্যারাকে কারারী ছাড়া আর কারো প্রবেশের অনুমতি নেই।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগ কারাগার থেকে বোমা উদ্ধারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের পর থেকে কারাগার থেকে আদালতে আসামি আনা-নেয়ার ব্যাপারে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়ন জেল সুপার আবদুস সালাম জানান, কারাগারে বোমা উদ্ধারের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা অভ্যন্তরে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ত্রিশালে পুলিশ ভ্যানে হামলা চালিয়ে তিন জেএমবি সদস্য ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে সাত সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা টিম। ত্রিশালে ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গিদের মধ্যে চট্টগ্রামের বোমা মিজানও রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম কারাগারে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি জেলার জাহেদুল আলমের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বিশেষ টিম কাজ করবে। টিমের সদস্যরা চট্টগ্রাম কারাগারে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে জেএমবির ১৫ সদস্য বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে একজন সাজাপ্রাপ্ত বাকিরা হাজতি।
এ দিকে গতকাল দুপুরের পর থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের দেখতে আসা আত্মীয়স্বজনকে তল্লাশি করে কারাগার এলাকায় প্রবেশ করাতে দেখা যায়।
ভালুকায় ১২টি ককটেল উদ্ধার : গতকাল রাতে ভরডোবা-ঘাটাইল সড়কের ভালুকা উপজেলার উথুরা গ্রামে রাস্তার পাশে বস্তাভর্তি ১২টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, উথুরায় রাস্তার পাশে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। রাতে পুলিশ এসে বস্তাটি খুলে ১২টি ককটেল উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে ত্রিশালের সাইনবোর্ড থেকে ছিনিয়ে নেয়া জেএমবির তিন জঙ্গিসহ ছিনতাইকারীরা ওই পথে পালানোর সময় বস্তাভর্তি ককটেলগুলো ফেলে রাখে। ভালুকা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ককটেলগুলো জঙ্গিরা ফেলে রেখেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত আতিকের লাশ দাফন : জেএমবির জঙ্গিদের ছিনতাইকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল আতিকুল ইসলামের পরিবারে এখন চলছে মাতম। গতকাল ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সদর উপজেলার গ্রামের বাড়ি চুরখাই পণঘাগড়ায় পিতা-মাতা, ভাই-বোনসহ স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আশপাশের লোকজন তাদেরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কেউ কোনো কথা বলছেন না।
নিহত আতিকের ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, আতিক তার ছোট ভাই। গাজীপুরে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিল। সাত বছর আগে সে পুলিশে চাকরি নেয়। আট বছর আগে ত্রিশাল উপজেলার রুদ্র গ্রামের আবদুস সোবহানের কন্যা সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করেন। লাবিব (৬) ও অর্ণব (৪) নামে দুই ছেলে রয়েছে। গতকাল বাদ আসর পুলিশ লাইনে ও পরে গ্রামের বাড়িতে দু’দফা নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাক দাফন করা হয়েছে।
ডিআইজির ব্রিফিং : ঘটনা তদন্তে সন্ধ্যা ৬টায় সখীপুর থানায় আসেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান বিপিএম, পিপিএমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে ঘটনার বিষয়ে তিনি সন্ধ্যা ৭টায় সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন।
তিনি জানান, প্রিজন ভ্যানের তালা ও আসামিদের ডান্ডাবেড়ি কেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি সালাহ উদ্দিন সালেহীন (৩৮), বোমা মিজান (৩৫) ও রাকিব হাসানকে (৩৫) ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে পালিয়ে যায়। তিনটি মাইক্রোবাসই জেএমবি সদস্যের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা বলে তিনি জানান।
ডিআইজি বলেন, এ ঘটনাটি জেএমবিদের পূর্বপরিকল্পিত। এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটতে পারে তা আমাদের ধারণায় ছিল না। এ ঘটনায় পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া বাকি আসামিদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে। অচিরেই জঙ্গিদের মূল উৎপাটন করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। এ ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক মামলা করা হবে বলেও তিনি জানান। দুই-এক দিনের মধ্যে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হবে।
ত্রিশালে কয়েদির পোশাকসহ মাইক্রোবাস উদ্ধার
ময়মনসিংহ অফিস ও ত্রিশাল সংবাদদাতা জানান, ত্রিশালের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে জেএমবির তিন জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার সময় জঙ্গিরা নানা কৌশল অবলম্বন করে। প্রিজন ভ্যানের চালক সবুজ মিয়া সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, জঙ্গিরা যে কালো রঙের ভক্সি মাইক্রোবাস ব্যবহার করেছে সেটিতে বনভোজনের ব্যানার লাগানো ছিল। তবে ব্যানারে কি লেখা ছিল তা তিনি বলতে পারেননি। এ জন্য মাইক্রোবাসটি আগে-পিছে গেলেও তার কোনো সন্দেহ হয়নি; কিন্তু পরে দেখা গেছে ওই মাইক্রোবাসে জেএমবির হামলাকারীরা ছিল। এ দিকে ঘটনার পরপরই যেসব সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেছেন তারা প্রিজন ভ্যান চালক সবুজকে সাদা পোশাকে দেখতে পান। ত্রিশাল থানার ওসি ঘটনাস্থলে আসার পর তিনি পোশাক পরেন।
এ দিকে গত রাত ১০টার দিকে ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের (মহিলা হোস্টেল) পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় জেএমবি জঙ্গিদের ব্যবহৃত সাদা রঙের মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৩-২৬৮৮) উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাইক্রোবাসের ভেতরে ইংরেজিতে পিকনিক লেখা ব্যানার, ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত কালো পোশাক, কাটা কাটা হ্যান্ডকাপ ও ডাণ্ডাবেরি পাওয়া গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, মাইক্রোটি দুপুর থেকে ওইখানে দেখা যায়। তারা ধারণা করেছিল যে, মাইক্রোটি ঠিকাদারের; কিন্তু রাত গভীর হওয়ার পরও সেটি পড়ে থাকায় তাদের সন্দেহ হয় এবং পুলিশকে খবর দেয়। ত্রিশাল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার ঘটনাস্থলে এসে মাইক্রোটি জব্দ এবং ভেতরে থাকা মালামাল উদ্ধার করেন।
দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এ এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে পুলিশের কাছে জানতে চান আসামিরা ডাণ্ডাবেরি পরিহিত ছিল কি না। তখন একজন পুলিশ ডাণ্ডাবেরি পরা ছিল বলে দাবি করলেও সাইদুর রহমান নামে প্রত্যদর্শী এক ব্যবসায়ী বলেন, ঘটনার সময় তিনি বগারবাজার থেকে আসছিলেন। রাস্তায় গোলাগুলির শব্দ শুনে থমকে দাঁড়ান। ঘটনাস্থলের প্রায় ৫০ গজ দূর থেকে তিনি দেখেছেন, প্রিজন ভ্যান থেকে পাঞ্জাবি ও কটি পরিহিত দুইজন নেমে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে কালো রঙের মাইক্রোবাসে উঠেন। তাদের কারো ডাণ্ডাবেরি ছিল না। কালো মাইক্রোবাসটি ঢাকার দিকে এবং সাদা মাইক্রোবাসটি ত্রিশালের দিকে চলে যায়।https://www.facebook.com/
মেয়েদের মাঝে যে ৮টি অদ্ভুত বিষয় পছন্দ করে ছেলেরা
মেয়েদের মাঝে যে ৮টি অদ্ভুত বিষয় পছন্দ করে ছেলেরা
24.02.2014 | 1:18 পূর্বাহ্ন
লাইফ স্টাইল, সাব লিড
no comments
মেক-আপকে না:
আজকাল আধুনিক নারী মাত্র মেক-আপ ব্যাপারটার সাথে সুপরিচিত। কোনো অনুষ্ঠান বা বেড়াতে যাওয়া- মেক-আপ ছাড়া মেয়েদের চলেই না। কিন্তু আপনি কী জানেন, আপনার পুরুষ সঙ্গীটি আপনাকে মেক-আপ ছাড়া দেখতেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন? শুধু সঙ্গী নয়, পুরুষ মাত্রই মেয়েদের মেক-আপ ছাড়া দেখতে পছন্দ করেন। কাজেই আজ থেকেই মেক-আপকে না বলুন এবং সঙ্গীর মন আরো খানিকটা জয় করুন।ম্যাচ না করা অন্তর্বাস:
প্রায় সব মেয়েই পোশাকের সাথে ম্যাচ করে অন্তর্বাস ব্যবহার করেন। কিন্তু ছেলেরা ম্যাচ না করা অন্তর্বাসই বেশি পছন্দ করে। যেমন ধরুন, আপনি গোলাপী সেলোয়ার-কামিজের সাথে ম্যাচ করে গোলাপী অন্তর্বাস পরছেন কিন্তু গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, এমন ক্ষেত্রে অন্য রঙের অন্তর্বাসই বেশি পছন্দ করে ছেলেরা।বুদ্ধিমত্তা:
ছেলেরা বোকা মেয়েদের চেয়ে বুদ্ধিমতি মেয়েদের বেশি পছন্দ করে। কারণ সঙ্গীনিই এমন একজন মানুষ, যিনি একজন ছেলের বলতে গেলে সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আর আপনি যদি জীবন চলার ক্ষেত্রে সঙ্গীর জীবনে বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে কোনো প্রবাব না রেখে বোকার মতো পথচলাকে থমকে দেন, সেটা নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে না।শরীরের বক্রতা:
ছেলেরা শরীরের বাঁক খুব পছন্দ করে। এজন্য দেখা যায় জিরো ফিগারের বা বেশি মোটা মেয়েদের চেয়ে ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী মেয়েদের বেশি পছন্দ করে ছেলেরা।আত্মবিশ্বাসী, মানসিক পরিপক্ক এবং যৌনতায় অকপটতা:
নিজেকে লুকিয়ে না রেখে আসল চেহারা উপস্থাপন করুন। সঙ্গী যখন হতাশাগ্রস্ত তাকে সাহস দিন। অন্তরঙ্গতার সময় কথার শালীনতার বেড়াজাল ছিন্ন করুন এবং অকপটে নিজের যৌনতা প্রকাশ করুন। হলফ করে বলে দেওয়া যায়, সঙ্গী শতভাগ আপনার।ঘুমানর সময় ঢোলা পোশাক পরুন:
অনেকেই নিজের স্মার্টনেস ধরে রাখতে অথবা আত্মসম্মানবোধের কারণে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলেন, পোশাকে পরিপাটী থাকেন। হয়তো ভেবে থাকেন, এমনভাবেই সঙ্গী পছন্দ করেন। কিন্তু এতে আপনার সঙ্গী উল্টো আরো বিরক্ত হতে পারেন। ঘুমানর সময় ঢোলা পোশাক পরুন, সঙ্গীর সাথে সকল দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলুন। দেখবেন, জীবন কত সুন্দর!অগোছালো চুল:
আপনি ভাবছেন আপনার পরিপাটি চুল সঙ্গী বেশি পছন্দ করেন? অনেকে তো নিজের চুল ধরতেও দিতে চান না। কিন্তু আপনি কী জানেন, আপনার সঙ্গী অগোছালো চুল বেশি পছন্দ করেন? আপনার চুল এলোমেলো করে দিতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন?চোখে চোখে যোগাযোগ:
সঙ্গীর চোখে চোখ রাখুন। আত্মিক যোগাযোগ গড়ে তুলুন। লজ্জাকে এখানে প্রশ্রয় দেবেন না। কারণ আপনার সঙ্গী আপনার সাথে দৃষ্টি বিনিময় করতেই বেশি ভালোবাসেন।http://banglanews26.com/ঢাকা/রাহিম
https://www.facebook.com/
https://www.facebook.com/banglanews26?skip_nax_wizard=true
মেয়েরা কেন গোপন করে নিজের আসল বয়স?
মেয়েরা কেন গোপন করে নিজের আসল বয়স?
24.02.2014 | 1:38 পূর্বাহ্ন
লাইফ স্টাইল, সাব লিড
no comments
আপনার বয়স কত? আপনি যদি একজন পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো এই প্রশ্নের
সঠিক জবাবটি মূহূর্তের মধ্যেই দিয়ে দেবেন। আর যদি আপনি একজন নারী হয়ে থাকেন
তাহলে হয়তো আপনি উত্তরই দেবেন না এই প্রশ্নের, কিংবা ভুল উত্তর দেবেন। আর
যদি সঠিক উত্তর দেন তাহলে নিঃসন্দেহে বেশ কিছুক্ষণ ভেবেচিন্তে দেবেন
উত্তরটি। কিন্তু কেন? অধিকাংশ নারীরাই কেন নিজের বয়স লুকাতে চান? এই বিষয়টি
অনেকের কাছেই হয়তো একটি রহস্য! আসুন জেনে নেয়া যাক নারীদের বয়স লুকানোর
পেছনের রহস্যটি।
আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারীরাই “বিয়ের বাজারে” দাম পেতে চান। আর আমাদের
সমাজের পুরুষদের কাছে বিয়ের বাজারে কম বয়সী নারীদেরই জয়জয়কার। আর তাই বিয়ের
বাজারে একজন দামী পাত্রী হয়ে ওঠার জন্য অনেক নারীই নিজের বয়স লুকিয়ে
রাখেন। এমনকি খুব কাছের বন্ধুবান্ধবের কাছেও নিজের সঠিক বয়সটা বলেন না
অনেকেই।
আমাদের
সমাজে একটি প্রচলিত বিষয় হলো মা-খালারা তাদের মেয়ে সন্তানদেরকে আসল বয়স
বলতে মানা করে দেন। তাদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে নানান রকম কুসংস্কার কাজ
করে। আর তাই মেয়েরা বড় হতে হতে এই বিষয়টি নিজের মনে গেঁথে রেখে দেয়। ফলে
তারা তাদের সঠিক বয়সটি কাউকে বলতে চায় না।
বিয়ের বাজারে দাম পাওয়া
আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারীরাই “বিয়ের বাজারে” দাম পেতে চান। আর আমাদের
সমাজের পুরুষদের কাছে বিয়ের বাজারে কম বয়সী নারীদেরই জয়জয়কার। আর তাই বিয়ের
বাজারে একজন দামী পাত্রী হয়ে ওঠার জন্য অনেক নারীই নিজের বয়স লুকিয়ে
রাখেন। এমনকি খুব কাছের বন্ধুবান্ধবের কাছেও নিজের সঠিক বয়সটা বলেন না
অনেকেই।কম বয়সী দেখানো
অনেক নারীই মনে করেন যে বয়স কম বললে তাদেরকে দেখতেও কম বয়সী দেখাবে। আর এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে অনেক নারী বয়স লুকিয়ে থাকেন।পুরুষের মন পাওয়া
পুরুষের মন পাওয়ার ইচ্ছা তো সব নারীরই গোপন মনবাসনা। আর তাই তারা ভাবেন নিজের বয়স কমিয়ে বললে পুরুষের মন পাওয়া বেশ সহজ হবে এবং পুরুষের কাছে আরো বেশি আকর্ষণীয় হওয়া যাবে। আবার অনেক সময় নিজের চাইতে বয়সে ছোট পুরুষের মনোযোগ আকর্ষণের জন্যও নারীরা সঠিক বয়সটা বলতে চান না।পরিবারের কাছ থেকে শিক্ষা
চাকরী পাওয়া
চাকরী পাওয়ার জন্য বয়স সীমা নির্ধারণ করা থাকে। আর এই বয়স সীমার ভেতরে থাকার জন্য অনেক নারী নিজের প্রকৃত বয়সটি লুকানোর চেষ্টা করেন। অবশ্য চাকরী পাওয়ার আশায় অনেক পুরুষও নিজের বয়স লুকান।বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়
অধিকাংশ নারীর মনে সাধারণ একটি ফোবিয়া থাকে। আর তা হলো বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়। বুড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে নারীরা নানান রকম রূপ চর্চা, প্লাস্টিক সার্জারী এবং যোগ ব্যায়াম করে থাকেন। আর তাই পাছে লোকে বুড়ো ভাবে তাই নিজের সঠিক বয়সটাও বলতে চান না মানুষকে।হিংসা
নিজের পরিচিত কোনো কম বয়সী সুন্দরী নারীর পাশে থাকলে অধিকাংশ নারীই নিজের বয়স লুকাতে চায়। হিংসা থেকেই হোক আর অনিরাপত্তা থেকেই হোক এই প্রবণতাটি কম বেশি সব নারীর মধ্যেই লক্ষ্য করা যায়।inShare
নিজেকে করে তুলুন “অসাধারণ” আকর্ষণীয়
নিজেকে করে তুলুন “অসাধারণ” আকর্ষণীয়
24.02.2014 | 1:46 পূর্বাহ্ন
লাইফ স্টাইল, সাব লিড
no comments
শুধুমাত্র প্রাণবন্ত চলাফেরা এবং সবার সাথে হাসিখুশি ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাবেন আপনি নিজেও। এই কাজগুলো করে আপনি অন্যের সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় উপস্থাপনের পাশাপাশি নিজেও অনুভব করবেন অনাবিল আনন্দ। আসুন তবে দেখে নেয়া যাক সেই সব কাজ সমূহ যা আপনাকে করবে অসাধারণ আকর্ষণীয়।
মনের সব নেতিবাচক চিন্তা বিসর্জন দিন
কোনো ঘটনাকে ভালো এবং খারাপের মাপকাঠিতে বিচার করা ছেড়ে দিন। আপনার
জীবনে যা ঘটে গেছে তার মধ্যে কী ভালো ছিল এবং কী খারাপ ছিল এই চিন্তা
একেবারে বাদ দিন।এতে করে আপনি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ আনন্দময় করে তুলতে পারবেন। কোনো নেতবাচক চিন্তা মনে ঠাই দেবেন না। মনে রাখবেন, ‘যা হয় ভালোর জন্যই হয়’। হয়তো ভালোটা আপনার বর্তমানে চোখে পড়ছে না কিন্তু পরবর্তীতে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। তাই শুধু শুধু নেতিবাচক চিন্তা করে মন খারাপ করে থাকবেন না। আপনার এই নেতিবাচক মনোভাব আপনার ওপর অনেকটা প্রভাব ফেলে যা আপনাকে অসাধারণ মনোমানসিকতার ব্যক্তিত্ব থেকে সাধারণ করে তোলে। আপনার জীবনে প্রতি ইতিবাচক চিন্তাধারা আপনাকে করে তুলবে ঈর্ষনীয় আকর্ষণীয়।
পছন্দের গান গুনগুন করুন
একই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করছেন? ৫ টি মিনিট সময় বের করুন। উঠে হাঁটাহাঁটি করুন আর গুনগুন করুন পছন্দের গানটি। নিজেকে অনেক বেশি উৎফুল্ল পাবেন যা কাজের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল। সাইকোলজিস্টদের মতে নিজের পছন্দের গানের মধ্যে এক ধরণের মন ভালো করার শক্তি থাকে যা যে কোনো মুহূর্তে এবং যে কোনো সময়ের মানসিকচাপ মুক্ত করার জন্য যথেষ্ট। আর আপনি উৎফুল্ল তো আশেপাশের মানুষের কাছে আপনি আকর্ষণীয়।আয়নার সামনে ছেলেমানুষি করুন
ছোট বেলায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখাভঙ্গি করেন নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সেই কাজটিই করুন। ছেলেমানুষ হয়ে যান খানিকটা সময়ের জন্য। এতে যে যাই ভাবুক না কেন আপনি নিজের মানসিক চাপ নিমেশে দূর করতে পারবেন। মন থাকবে ফুরফুরে। আপনার এই ফুরফুরে মেজাজ সকলের নজর কাড়তে বাধ্য। সুতরাং চেষ্টা করেই দেখুন না।মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাঁটুন এবং বসুন
আপনি যখনি হাঁটবেন এবং বসবেন তখনই মেরুদণ্ড সোজা করে রাখার চেষ্টা করুন। কারণ আপনার গা এলিয়ে বসা এবং পিঠ বাকা করে হাঁটা আপনাকে ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত এবং মানসিক চাপে বিধ্বস্ত হিসেবে উপস্থাপন করে। যদি আপনি আসলেই মানসিক চাপে পরিশ্রান্ত হয়ে থাকেন তবে কেন আপনি তা অন্যকে দেখিয়ে করুনার পাত্র হবেন? এর চাইতে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করুন। আপনি হতে পারবেন সকলের কাছে একজন আইডল।একপায়ে দাঁড়ান
ছোটবেলায় একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছিল একধরনের শাস্তি। কিন্তু এই শাস্তি ছিল আমাদের দেহের জন্য বেশ ভালো। কারণ এক পায়ে দাঁড়ানো তাৎক্ষণিক ভাবে দেহে এনার্জি আনতে সক্ষম। একপায়ে দাঁড়ানোকে যোগব্যায়ামের সাথে তুলনা করা যায়। যদি নিজেকে একেবারে ক্লান্ত মনে হয় উঠে দাঁড়ান, এক পায়ে দাঁড়ান খানিকক্ষণ। এতে দেহের সাথে মনের যোগাযোগ ভালো হয় বলেন যোগ ব্যায়াম বিশারদগণ। এতে মন ভালো হয় সাথে সাথে। নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন আকর্ষণীয় প্রাণবন্ত একজন মানুষ হিসেবে।http://banglanews26.com/ঢাকা /পিনটু
https://www.facebook.com/ছবিতে সুন্দর দেখানোর কিছু টিপস
ছবিতে সুন্দর দেখানোর কিছু টিপস
24.02.2014 | 3:49 পূর্বাহ্ন
লাইফ স্টাইল, সাব লিড
no comments
নিউজ
ডেস্ক : কার না ভালো লাগে পরিবার-পরিজন বা বন্ধু বান্ধবের সাথে ছবি তুলতে।
কিন্তু দুঃখের সীমা থাকে না যখন সেইসব ছবিতে নিজের ছবিটাই যদি সুন্দর না
আসে। অনেকেরই এই ব্যাপারে নালিশ রয়েছে যে তারা বাস্তবে যতটা সুন্দর ছবিতে
ততটা সুন্দর দেখায় না। আজকের এই লেখাটি তাদের জন্য। আজ আপনাদের জন্য জানাবো
ছবিতে সুন্দর দেখানোর কিছু টিপস এবং ট্রিকস সম্পর্কে।
ছবিটা তুলবেন ক্যামেরা সবসময় নিজের মুখ থেকে একটু উপরের দিকে রেখে
মুখ থেকে কিছুটা নীচের পজিশনে ক্যামেরা রেখে কোন ছবি তুলে দেখবেন আপনার চেহারার সৌন্দর্যটাই ধরা পড়েনি ঠিকমতো। এর কারণ খুব সোজা, যখনই তেমন পজিশনে ছবি তোলা হয় তখন নাক এবং থুতনির আকার ক্যামেরার লেন্সে খুব বড় হয়ে ধরা পড়ে। এই সমস্যা এড়াতে ক্যামেরা সবসময় নিজের মুখ থেকে একটু উপরের দিকে রেখে ছবিটা তুলবেন। ছবি সুন্দর আসবে।
মুখ থেকে কিছুটা নীচের পজিশনে ক্যামেরা রেখে কোন ছবি তুলে দেখবেন আপনার চেহারার সৌন্দর্যটাই ধরা পড়েনি ঠিকমতো। এর কারণ খুব সোজা, যখনই তেমন পজিশনে ছবি তোলা হয় তখন নাক এবং থুতনির আকার ক্যামেরার লেন্সে খুব বড় হয়ে ধরা পড়ে। এই সমস্যা এড়াতে ক্যামেরা সবসময় নিজের মুখ থেকে একটু উপরের দিকে রেখে ছবিটা তুলবেন। ছবি সুন্দর আসবে।
আলোর প্রতিফলন:
সবসময় এমনভাবে ছবি তুলবেন যাতে আলোর প্রতিফলন আপনার মুখের উপর পড়ে। এতে করে ছবিতে চেহারা সুন্দর এবং স্পষ্ট আসবে। ছবি তোলার সময় যদি আলো পেছনে রেখে ছবি তোলেন তাহলে আপনার চেহারার পরিবর্তে ছায়াটা বেশি দৃষ্টিগোচর হবে। তবে আলো মানেই যে অতিরিক্ত আলো তা কিন্তু নয়। অতিরিক্ত আলোতে বা সরাসরি সূর্যের আলোতে ছবি তুললে চেহারার ফিচার ঠিকমতো বোঝা যাবে না। সবসময় ইনডাইরেকট বা ফিল্টার করা আলোতে ছবি তুলুন। এতে করে আপনিও পোজ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং ছবিটাও সুন্দর আসবে।
সবসময় এমনভাবে ছবি তুলবেন যাতে আলোর প্রতিফলন আপনার মুখের উপর পড়ে। এতে করে ছবিতে চেহারা সুন্দর এবং স্পষ্ট আসবে। ছবি তোলার সময় যদি আলো পেছনে রেখে ছবি তোলেন তাহলে আপনার চেহারার পরিবর্তে ছায়াটা বেশি দৃষ্টিগোচর হবে। তবে আলো মানেই যে অতিরিক্ত আলো তা কিন্তু নয়। অতিরিক্ত আলোতে বা সরাসরি সূর্যের আলোতে ছবি তুললে চেহারার ফিচার ঠিকমতো বোঝা যাবে না। সবসময় ইনডাইরেকট বা ফিল্টার করা আলোতে ছবি তুলুন। এতে করে আপনিও পোজ দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন এবং ছবিটাও সুন্দর আসবে।
খুজে বের করুন কোন হাসিটাতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে:
আয়নার সামনে গিয়ে হাসুন এবং বের করুন কোন হাসিটাতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে অথবা ফোন বা ক্যামেরা দিয়ে নিজেই হাসি দিয়ে ছবি তুলতে থাকুন আপনার সিগ্নেচার স্মাইলটি খুজে না পাওয়া পর্যন্ত আর পরবর্তীতে যখনই ছবি তুলবেন আপনার সিগ্নেচার স্মাইলটি দিতে ভুলবেন না যেন।
আয়নার সামনে গিয়ে হাসুন এবং বের করুন কোন হাসিটাতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে অথবা ফোন বা ক্যামেরা দিয়ে নিজেই হাসি দিয়ে ছবি তুলতে থাকুন আপনার সিগ্নেচার স্মাইলটি খুজে না পাওয়া পর্যন্ত আর পরবর্তীতে যখনই ছবি তুলবেন আপনার সিগ্নেচার স্মাইলটি দিতে ভুলবেন না যেন।
ছবি তোলার ক্ষেত্রে আপনার দাঁড়ানোর স্টাইলটাও কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ম্যাগাজিনে সেলিব্রেটি বা মডেলদের দাঁড়ানোর বিভিন্ন স্টাইল লক্ষ্য করুন। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি ফলো করা হয় সেটি হচ্ছে এক পায়ের সাথে আরেক পা কিছুটা আড়াআড়ি করে রেখে দাঁড়িয়ে ছবির জন্য পোজ দেয়া। এতে করে দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও সাবলীল হয় এবং ছবিতেও সুন্দর দেখায়।
নিজের স্টাইলে পোজ দিন:
অনেকেকেই দেখা যায় দুই হাত সমান করে দাঁড়িয়ে যান ছবি তুলতে। এতে আপনার চেহারায় একটা বোকা ভাব তো চলে আসেই সাথে সাথে ছবিতে শরীরের আকারটাও বোঝা যায় না ঠিকমতো। তাই ছবি তোলার সময় হাত দুটো শরীরের সাথে সমান করে না রেখে একটু দূরে রাখুন বা হাত কোমরে রেখে নিজের স্টাইলে পোজ দিন। কোমরে হাত রাখলে হাতের আঙুল গুলো ছড়িয়ে রাখবেন না। এতে করে ছবিতে নিজের চাইতে আঙুলগুলো বেশি দৃষ্টিগোচর হবে।
অনেকেকেই দেখা যায় দুই হাত সমান করে দাঁড়িয়ে যান ছবি তুলতে। এতে আপনার চেহারায় একটা বোকা ভাব তো চলে আসেই সাথে সাথে ছবিতে শরীরের আকারটাও বোঝা যায় না ঠিকমতো। তাই ছবি তোলার সময় হাত দুটো শরীরের সাথে সমান করে না রেখে একটু দূরে রাখুন বা হাত কোমরে রেখে নিজের স্টাইলে পোজ দিন। কোমরে হাত রাখলে হাতের আঙুল গুলো ছড়িয়ে রাখবেন না। এতে করে ছবিতে নিজের চাইতে আঙুলগুলো বেশি দৃষ্টিগোচর হবে।
পেছনের সব চুল সামনে আনুন:
ছবি তোলার সময় একটি কথা মাথায় রাখবেন যে পেছন থেকে আপনাকে কেউ দেখছে না, সুতরাং পেছনের সব চুল সামনে আনুন। এতে করে চুল আরও ঘন দেখাবে এবং ছবিও সুন্দর আসবে আর স্টুডিও ফটোশুটের ক্ষেত্রে ড্রেস যদি ভালো মতো ফিট না থাকে তাহলে ড্রেসের পেছনে ক্লিপ লাগিয়ে নিজের পছন্দমত ফিট করে নিন।
ছবি তোলার সময় একটি কথা মাথায় রাখবেন যে পেছন থেকে আপনাকে কেউ দেখছে না, সুতরাং পেছনের সব চুল সামনে আনুন। এতে করে চুল আরও ঘন দেখাবে এবং ছবিও সুন্দর আসবে আর স্টুডিও ফটোশুটের ক্ষেত্রে ড্রেস যদি ভালো মতো ফিট না থাকে তাহলে ড্রেসের পেছনে ক্লিপ লাগিয়ে নিজের পছন্দমত ফিট করে নিন।
মন থেকে হাসুন:
ক্যামেরার সামনে যখনই হাসবেন অবশ্যই মন থেকে হাসবেন। দরকার হলে মজার কোন ঘটনা বা কথা ভাবুন, আর যদি মন থেকে হাসতে না পারেন তবে হাসবেন না। তবুও যাতে হাসিটা ন্যাচারাল থাকে।
ক্যামেরার সামনে যখনই হাসবেন অবশ্যই মন থেকে হাসবেন। দরকার হলে মজার কোন ঘটনা বা কথা ভাবুন, আর যদি মন থেকে হাসতে না পারেন তবে হাসবেন না। তবুও যাতে হাসিটা ন্যাচারাল থাকে।
আশা করি এরপর থেকে আর ক্যামেরা দেখলেই মুখ লুকাতে হবে না।
০৩.৩৯/http://banglanews26.com/ রাহিম
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ
(
Atom
)















